Sumon Sarker , 1 সপ্তাহ আগে

ভাইভাতে সফলতা হতে অবশ্যই অনুসরণ করুন এসব টিপস

ভাইভাতে সফলতা হতে অবশ্যই অনুসরণ করুন এসব টিপস

চাকরী পাওয়া আজকাল সোনার হরিণ হাতে পাওয়ার মত। বাংলাদেশের মেক্সিমাম চাকরীর পরীক্ষার জন্য ভাইভা আবশ্যকীয়। এমন অনেকেই আছেন যাদের ভাইভা নিয়ে আছে মারাত্মক রকমের ভীতি। নিম্নোক্ত টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার ভাইভা ভালো হতে বাধ্য। 

১. কিছু এটিকেট: ভাইভা বোর্ডে কিছু এটিকেট অবশ্যই মেনে চলবেন। যেমন: ঢুকার সময় ”May I come in, Sir" অথবা সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকার অনুমতি নেয়া, চেয়ারে বসার অনুমতি না দেয়ার আগে না বসা, সোজা হয়ে বসা, পায়ের উপর পা তুলে না বসা। 

২. কখনও অর্ধেক নাম বলবেন না: আপনাকে যখন আপনার নাম জিঙ্গাসা করা হবে সবসময় পুরো নাম বলবেন। কখনও অর্ধেক নাম বলবেন না। কেননা আমি আগেই বলেছি ভাইভাটা একটা ফরমাল আড্ডা। 

৩. ভয় না পাওয়া/নার্ভাস না হওয়া: আমাদের ভাইভা ভালো না হওয়ার পেছনে বেশ বড় একটি কারণ হলো ভয় পেয়ে নার্ভাস হয়ে যাওয়া। কখনও ভয় পাবেন না। ভাইভা বোর্ডকে ভীতিকর জায়গা না ভেবে আড্ডার জায়গা ভাবুন যে আড্ডাটা করতে হবে একটু ফরমাল ওয়েতে। এক্ষেত্রে আপনাকে খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে। 

৪. আই-কন্টাক্ট: আপনাকে আপনার ইন্টারভিউয়ারের চোখে চোখ রেখে   আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলতে হবে। কথা বলাটা যাতে ইন্টারেক্টিভ হয়। ইন্টারভিউয়ার আপনার দিকে তাকিয়ে আছে আর আপনি যদি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকেন তাহলে ইম্প্রেসনটা খুবই খারাপ হয়। 

৫. যা বলবেন কন্ফিডেন্টলি বলবেন, না পারলে ’সরি’: যা জিঙ্গাসা করা হচ্ছে তা যদি জানা থাকে তাহলে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলুন আর জানা না থাকলে সিম্পলি ’সরি’ বলুন। দু’একটা উত্তর না পারা মানে এটা বুঝায় না যে আপনার ভাইভা খারাপ হয়েছে। 

৬. প্রিপারেশন ভালোভাবে নিন: যখন প্রিপারেশন নিবেন অবশ্যই ভালোভাবে নিন। যে কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাইভা দিচ্ছেন সে প্রতিষ্ঠানের উপর কমপক্ষে ১০ টি প্রশ্ন বানান এবং সেগুলোর উপর প্রিপারেশন নিন। প্রশ্নগুলো এমনভাবে বানাবেন যাতে ইন্টারভিউয়ার আপনাকে সে প্রশ্নগুলোই জিঙ্গাসা করেন। অথবা সরাসরি সে প্রশ্নগুলো না করলেও সেগুলোর আশেপাশে থেকে করে অথবা আপনি আপনার বানানো প্রশ্নগুলোর সাথে রিলেট করে উত্তর দিতে পারেন। প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আপনার নিজ জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা হলের বিখ্যাত ব্যাক্তিদের সম্পর্কেও জেনে নিন। 

৭. প্রশ্নগুলোর ব্রিফ উত্তর যেন প্রথম তিনটি বাক্যে থাকে: যেসব প্রশ্ন করা হবে সেগুলো সরাসরি উত্তর যাতে প্রথম তিনটি বাক্যের মধ্যে থাকে। আরো বিস্তারিত বলা লাগলে তারপর বলবেন। 

৮. ইংরেজি ভাইভায় কিছু শব্দ ব্যবহার করবেন: প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে ”আ-আ” না করে "Well" ব্যবহার করবেন। এতে আপনি প্রশ্নটার উত্তর গুছিয়ে নিতে ২/৩ সেকেন্ড সময় পাবেন। মাঝে মাঝে যদি কথা আটকে যান তখন ”You know" ব্যবহার করতে পারেন।

৯. জারগন ব্যবহার করা যাবে না: প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করবেন না যেটার উপর ইন্টারভিউয়ার আপনাকে আবার প্রশ্ন করতে পারে। এতে ইন্টারভিউয়ারের জন্য আপনাকে বিপাকে ফেলা সহজ হয়।

১০. হাসি-মুখে উত্তর দেয়া: ভাইভা বোর্ডে মুখ কখনও গুমড়া করে রাখবেন না। এটা ইন্টারভিউয়ারের মনে আপনার সম্পর্কে একটা নেগেটিভ ধারণা জন্মাবে। সবসময় ফেস স্মাইলিং মুডে রাখবেন। 

১১. ভাষা ব্যবহারে লক্ষণীয় বিষয়: ইন্টারভিউয়ার যদি আপনাকে বাংলায় প্রশ্ন করেন তাহলে বাংলায় উত্তর দিবেন আর ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর দিবেন। 

উল্লেখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ভাইভাতে অবশ্যই সফলতা আসবে। 





কমেন্টগুলো :


কমেন্ট করতে হলে আপনাকে অবশ্যই লগ ইন করতে হবে।

  ফিডব্যাক